চক্র কৌশল
সিড ফ্রেজ নিরাপদে ব্যাকআপ করার উপায়: যাচাই, অফলাইন সংরক্ষণ ও সাধারণ ভুল
সিড ফ্রেজে একটি শব্দ ভুল লিখলেও ওয়ালেট সবসময় ধরতে পারে না — ১২ শব্দের ক্ষেত্রে পরিমাপে ৬.৩৮% ভুলও গৃহীত হয়েছে। BIP-39 চেকসামের সীমা, শব্দে নম্বর দেওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে রাখা, অফলাইন কপির সংখ্যা ও রিকভারি যাচাইয়ের পূর্ণ প্রক্রিয়া।
এক্সচেঞ্জ থেকে বিটকয়েন নিজের ওয়ালেটে সরানোর পর আসল পার্থক্য তৈরি করে কোন হার্ডওয়্যার ওয়ালেট কিনলেন তা নয় — বরং ১২ বা ২৪টি ইংরেজি শব্দ ঠিকভাবে, সম্পূর্ণভাবে এবং অফলাইনে সংরক্ষিত হলো কি না, সেটাই। এই লেখায় একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে: সিড ফ্রেজ কীভাবে লিখবেন, কীভাবে যাচাই করবেন এবং কোথায় রাখবেন, যাতে রিকভারির দিনে এসে ভুল ধরা না পড়ে।
শুরুতেই সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত তথ্যটি বলে রাখি: একটি শব্দ ভুল লিখলেও ওয়ালেট সবসময় ভুল ধরতে পারে না। কেন পারে না, তা নিচে নিজে যাচাই করা যায় এমন পরিমাপ দিয়ে দেখানো হয়েছে।
সিড ফ্রেজ আসলে কী: এটি পাসওয়ার্ড নয়, বীজ
বেশির ভাগ ওয়ালেট BIP-39 নামের একটি উন্মুক্ত স্পেসিফিকেশন মেনে চলে, যার শিরোনাম "Mnemonic code for generating deterministic keys" এবং স্ট্যাটাস Deployed।

এর কাজের ধরন হলো: ওয়ালেট প্রথমে একটি এলোমেলো সংখ্যা (এনট্রপি) তৈরি করে, তার সঙ্গে চেকসাম যোগ করে ১১ বিটের ভাগে ভাগ করে, আর প্রতিটি ভাগ শব্দতালিকার একটি শব্দের সঙ্গে মেলে। ফলে—
- সিড ফ্রেজ কোনো অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড নয় — এটি রিসেট করা যায় না, হারিয়ে গেলে কোথাও আবেদন করা যায় না।
- সিড ফ্রেজ আপনার সব অ্যাড্রেসের প্রাইভেট কি-র সমান। এটি যার হাতে যাবে, তার আপনার ফোন, PIN বা হার্ডওয়্যার ডিভাইস কোনোটিই লাগবে না।
- ওয়ালেট অ্যাপের PIN, প্যাটার্ন লক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট শুধু ওই ডিভাইসটিকে রক্ষা করে — সিড ফ্রেজকে নয়।
এ কারণেই সেলফ-কাস্টডি না এক্সচেঞ্জ কাস্টডি বেছে নেওয়ার কাঠামোতে আসল শর্ত একটাই: কয়েকটি শব্দ আপনি নিরাপদে রাখতে পারবেন কি না।
শব্দতালিকায় মাত্র ২০৪৮টি শব্দ, তবু ভুল ধরা পড়বে এমন নয়
BIP-39-এর ইংরেজি শব্দতালিকা একটি নির্দিষ্ট টেক্সট ফাইল — ঠিক ২০৪৮ লাইন, ২০৪৮টি শব্দ।

ফাইলটি নামিয়ে হিসাব করলে (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যাচাই) লেখার সময় কাজে লাগে এমন তিনটি তথ্য পাওয়া যায়:
| হিসাব | ফলাফল |
|---|---|
| মোট শব্দ | ২০৪৮টি |
| প্রথম ৪ অক্ষর নিলে অনন্য থাকে যতগুলো | ২০৪৮টি (সবগুলোই অনন্য) |
| শব্দের দৈর্ঘ্য | ৩ অক্ষর ১০৩টি, ৪ অক্ষর ৪৪২টি, ৫ অক্ষর ৫৫৫টি, ৬ অক্ষর ৫০৮টি, ৭ অক্ষর ৩৫২টি, ৮ অক্ষর ৮৮টি |
| ৩–৪ অক্ষরের শব্দ | ৫৪৫টি |
"প্রথম ৪ অক্ষর অনন্য" — এই বৈশিষ্ট্যটি বেশ কাজের। ধাতব ব্যাকআপ প্লেটে সাধারণত ৪টি অক্ষরই বসানো যায়, সেটি এই কারণেই সম্ভব; আর হাতে লেখা কপি মেলানোর সময়ও প্রথম ৪ অক্ষর মিলে গেলেই শব্দটি নিশ্চিত করা যায়।
তবে খেয়াল করুন, বাঁ পাশের ফাইল তালিকায় chinese_simplified.txt, czech.txt, french.txt-এর মতো অন্য ভাষার শব্দতালিকাও আছে। আপনার সিড ফ্রেজ ইংরেজি না হলে রিকভারির সময় ওয়ালেটে সঠিক ভাষার তালিকা বেছে নিতে হবে, নইলে একই শব্দগুলোই অবৈধ দেখাবে।
পরিমাপ: ১২ শব্দের ফ্রেজে একটি শব্দ ভুল হলেও ৬.৩৮% ক্ষেত্রে তা গৃহীত হয়
BIP-39-এ চেকসাম আছে ঠিকই, কিন্তু তা খুব ছোট: চেকসামের দৈর্ঘ্য = শব্দসংখ্যা × ১১ ÷ ৩৩ বিট। ১২ শব্দে মাত্র ৪ বিট, ২৪ শব্দে ৮ বিট।
বাস্তবে এই ৪ বিট কতটা ভুল ঠেকাতে পারে তা দেখতে আমরা নিজেরাই BIP-39 চেকসাম প্রয়োগ করেছি: এলোমেলোভাবে সিড ফ্রেজ তৈরি করে তার একটি শব্দ তালিকার অন্য একটি শব্দ দিয়ে বদলে আবার যাচাই করা হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০,০০০ বার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ চালানো):

| পরিস্থিতি | পরিমাপে বৈধ থেকেছে | তাত্ত্বিক মান |
|---|---|---|
| ১২ শব্দ, একটি শব্দ ভুল | ৬.৩৮% (১,২৭৫ / ২০,০০০) | ৬.২৫% (১/১৬) |
| ২৪ শব্দ, একটি শব্দ ভুল | ০.৪৫% (৮৯ / ২০,০০০) | ০.৩৯% (১/২৫৬) |
| ১২ শব্দ, পাশাপাশি দুটি শব্দের ক্রম উল্টো | ৬.২৬% | ৬.২৫% |
এই তিনটি সারি থেকে তিনটি কাজের সিদ্ধান্ত আসে:
১. "ওয়ালেট ভুল বলেনি" মানে ব্যাকআপ ঠিক আছে — এমন ধরে নেওয়া যাবে না। ১২ শব্দের ফ্রেজে একটি শব্দ ভুল হলে গড়ে প্রতি ১৬ বারে একবার তা গৃহীত হয় এবং আপনাকে শূন্য ব্যালেন্সের একটি নতুন ওয়ালেটে নিয়ে যায় — যা দেখতে হুবহু "এখনো কয়েন আসেনি এমন নতুন ওয়ালেটের" মতো। ২. ২৪ শব্দ ভুল ধরার ক্ষমতা অনেক বেশি — একটি শব্দ ভুল হলে গৃহীত হওয়ার হার ৬.৩৮% থেকে নেমে ০.৪৫% হয়। ওয়ালেট সুযোগ দিলে ২৪ শব্দ বেছে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত। ৩. ক্রম উল্টে যাওয়াও শব্দ ভুল হওয়ার মতোই বিপজ্জনক। চেকসাম পুরো ক্রমের ওপর হিসাব হয়, কিন্তু তা-ও মাত্র ৪ বিট — তাই ধরতে পারে না। লেখার সময় অবশ্যই নম্বর দিন।
চেকসামের উদ্দেশ্য টাইপিং ভুল ধরতে সাহায্য করা, ব্যাকআপ নির্ভুল হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া নয়। আসল যাচাই একটাই: ব্যাকআপ দিয়ে একবার সত্যিই রিকভার করে দেখা।
লেখার সময়েই শেষ করতে হবে এমন ৫টি কাজ
ব্যাকআপে ভুল হওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ওই তিন মিনিটে, যখন ওয়ালেট প্রথমবার স্ক্রিনে শব্দগুলো দেখায় আর আপনি তাড়াহুড়ো করে "আমি লিখে রেখেছি" চাপতে যান। নিচের ৫টি কাজ তখনই সেরে ফেলুন:
১. প্রতিটি শব্দে নম্বর দিন। কাগজে আগে ১ থেকে ১২ (বা ২৪) লিখে তারপর শব্দ বসান, একটানা লাইনে লিখবেন না। ক্রম ভুল হলে ফল শব্দ ভুল হওয়ার সমান।
২. প্রতিটি শব্দ পুরো, ছোট হাতের অক্ষরে, স্পষ্ট করে লিখুন। হাতে লেখায় সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায় a/o, rn/m, l/1, u/v। লেখা শেষে প্রতিটি শব্দের প্রথম ৪ অক্ষর মিলিয়ে নিন।
৩. তখনই উল্টো দিক থেকে একবার মিলিয়ে নিন। ১২ নম্বর থেকে ১ নম্বরের দিকে পড়ে স্ক্রিনের সঙ্গে মেলালে লাইন বাদ পড়া বা এক লাইন সরে যাওয়া সহজে ধরা পড়ে।
৪. সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্যও লিখে রাখুন। শব্দসংখ্যা (১২ না ২৪), তৈরির তারিখ, ওয়ালেট সফটওয়্যারের নাম ও ভার্সন, অ্যাড্রেসের ধরন বা ডেরিভেশন পাথ (যেমন bc1 দিয়ে শুরু হওয়া Native SegWit), এবং passphrase দেওয়া আছে কি না। এই তথ্যগুলো না থাকলে রিকভারির সময় খালি অ্যাড্রেস দেখে বিভ্রান্ত হতে হয়।
৫. ওই কাগজে টাকার অঙ্ক, এক্সচেঞ্জের নাম বা "বিটকয়েন" শব্দটি লিখবেন না। কাগজটি যার হাতে পড়বে, তার জানার দরকার নেই এটি কী এবং এর মূল্য কত।
সব ওয়ালেটে একই সিড ফ্রেজ কাজ না-ও করতে পারে
অনেকে ভাবেন "১২টি ইংরেজি শব্দ" যেকোনো ওয়ালেটে রিকভার করা যায় — এটি ঠিক নয়। Electrum ২.০ থেকে নিজস্ব Seed Version System ব্যবহার করে; তাদের ডকুমেন্টেশনে স্পষ্ট লেখা আছে যে তাদের সিডে ভার্সন নম্বর থাকে এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট শব্দতালিকার ওপর নির্ভর করে না।

ব্যবহারিকভাবে দুটি বিষয় মনে রাখুন:
- Electrum-এর সিড BIP-39 সিড নয় — সরাসরি অন্য ওয়ালেটে দিলে রিকভার না-ও হতে পারে; উল্টোভাবে BIP-39 ফ্রেজ Electrum-এ আনতে হলে নির্দিষ্ট ইমপোর্ট প্রক্রিয়া লাগে।
- দুটোই BIP-39 হলেও ডেরিভেশন পাথ আলাদা হলে ভিন্ন অ্যাড্রেস তৈরি হয়। ব্যালেন্স শূন্য দেখালে আগে অ্যাড্রেসের ধরন দেখুন (Legacy
1, P2SH3, Native SegWitbc1), তারপর সিড ফ্রেজ নিয়ে সন্দেহ করুন।
তাই অতিরিক্ত তথ্যগুলো সিড ফ্রেজের সঙ্গেই রাখা উচিত: এগুলো গোপন নয়, কিন্তু ফেরত পাওয়া যাবে কি না তা এগুলোর ওপরই নির্ভর করে।
অফলাইন সংরক্ষণ: কোথায় রাখবেন, কয়টি কপি
নীতি একটাই: সিড ফ্রেজ কোনোভাবেই ইন্টারনেটে যুক্ত ডিভাইসে ঢোকা উচিত নয়।
যা করবেন না:
- ফোনে ছবি তোলা (গ্যালারি নিজে থেকেই ক্লাউডে সিঙ্ক হয়)
- স্ক্রিনশট নেওয়া (এটিও সিঙ্ক হয় এবং প্রায়ই সার্ভারে ব্যাকআপ হয়)
- ক্লাউড ড্রাইভ, নোট অ্যাপ, ইমেইলের ড্রাফট বা মেসেঞ্জারে "নিজেকে পাঠানো"
- পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে রাখা (বেশির ভাগ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ক্লাউডে সিঙ্ক করে; অফলাইন হলেও এটি ঝুঁকিটিকে কেবল অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়)
- "বৈধ কি না দেখতে" কোনো ওয়েব টুলে টাইপ করা — টাইপ করার মুহূর্তেই সেটি ফাঁস হয়েছে ধরে নিন
যা করতে পারেন:
| সংরক্ষণের উপায় | আগুন/পানি সহনশীলতা | খরচ | কখন উপযুক্ত |
|---|---|---|---|
| সাধারণ কাগজ + পানিরোধী ব্যাগ | দুর্বল | প্রায় শূন্য | শুরুর দিকে, অল্প পরিমাণ, বছরে একবার পরীক্ষা করলে |
| মোটা কার্ড বা ফাইলের ভেতরের পাতা | দুর্বল | কম | একই, তবে বেশি টেকসই |
| ধাতব প্লেটে খোদাই বা অক্ষর বসানো | ভালো | মাঝারি | পরিমাণ এমন হলে যা হারাতে চান না |
কপির সংখ্যা ও জায়গা:
- অন্তত ২টি কপি, এবং একই জায়গায় নয়। একটি বাড়িতে, আরেকটি এমন দ্বিতীয় জায়গায় যেখানে আপনি যখন খুশি যেতে পারেন এবং যেটিকে বিশ্বাস করেন। সব কপি এক ড্রয়ারে থাকলে আগুন বা চুরি একবারেই সব নিয়ে যাবে।
- "নিরাপত্তার জন্য" সিড ফ্রেজ দুই ভাগ করে আলাদা রাখবেন না। ভাগ করলে আক্রমণকারীর কাজ দ্বিগুণ কঠিন হয় না, কিন্তু "যেকোনো এক ভাগ হারালেই সব শেষ" — এই ঝুঁকিটি দ্বিগুণ হয়। ভাগ করে রাখতে চাইলে ওয়ালেটের নিজস্ব স্প্লিট ব্যাকআপ বা মাল্টিসিগ ব্যবহার করুন, নিজে কেটে নয়।
- নিজের বানানো "এনক্রিপশন" নিয়ে সাবধান। শব্দের ক্রম উল্টে দেওয়া, প্রতিটি শব্দে একটি অক্ষর জুড়ে দেওয়া বা নিজের বোঝা সংকেতে লেখা — আজ মনে থাকলে নিরাপদ মনে হয়, কিন্তু তিন বছর পর বা পরিবারের কারও হাতে পড়লে এটি কার্যত ব্যাকআপ নষ্ট করার সমান।
passphrase (২৫তম শব্দ) নিয়ে
BIP-39 সিড ফ্রেজের পাশাপাশি নিজের পছন্দের একটি passphrase যোগ করার সুযোগ দেয়। এর আচরণ আগে বুঝে নেওয়া জরুরি:
- ভিন্ন passphrase মানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ওয়ালেট। একটি অক্ষর ভুল হলে কোনো ত্রুটি দেখাবে না, শুধু একটি খালি ওয়ালেট আসবে।
- এর কোনো রিকভারি ব্যবস্থা নেই — ভুলে গেলে তা স্থায়ীভাবে হারানো, সিড ফ্রেজ হারানোর মতোই।
- এর সুবিধা একটাই: কেউ আপনার কাগজের সিড ফ্রেজ পেয়ে গেলেও সম্পদ সরাতে পারবে না।
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য পরামর্শ: ব্যাকআপের নিয়মিত অভ্যাস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত passphrase ব্যবহার করবেন না। ব্যবহার করলে "এই সিড ফ্রেজে passphrase আছে" — এই তথ্যটুকু ব্যাকআপের পাশে লিখে রাখুন (শুধু তথ্য, passphrase নয়), আর passphrase-টি আলাদা অফলাইন কপিতে ভিন্ন জায়গায় রাখুন।
সাধারণ ভুলের তালিকা
| প্রচলিত অভ্যাস | সমস্যা | বদলে যা করবেন |
|---|---|---|
| শুধু মুখস্থ রাখা | স্মৃতি দুর্বল হয়, কাউকে হস্তান্তরও করা যায় না | অন্তত একটি লিখিত কপি |
| ছবি তুলে গ্যালারিতে রাখা | ক্লাউডে সিঙ্ক হয়, মানে আপলোড হয়ে যায় | হাতে লেখা বা ধাতব কপি |
| একটি কপি বাড়িতে রাখা | আগুন, পানি বা বাসা বদলে একবারেই সব শেষ | ২ কপি, আলাদা জায়গায় |
| নম্বর ছাড়া একটানা লেখা | ক্রম ভুল হলেও চেকসাম পাস করে (পরিমাপে ৬.২৬%) | প্রতিটি শব্দে নম্বর |
| শুধু শব্দ, শব্দসংখ্যা বা অ্যাড্রেসের ধরন নেই | রিকভারিতে খালি অ্যাড্রেস নিয়ে ভুগতে হয় | সঙ্গে তথ্য লিখুন |
| "ওয়ালেট ভুল বলেনি মানে ঠিক আছে" | ১২ শব্দে ৬.৩৮% ভুলও গৃহীত হয় | রিকভার করে যাচাই |
| অনলাইন টুলে সিড যাচাই | টাইপ করা মানেই ফাঁস | শুধু অফলাইন ডিভাইসে |
| দুই ভাগ করে আলাদা রাখা | হারানোর ঝুঁকি দ্বিগুণ | পূর্ণ কপি একাধিক, বা মাল্টিসিগ |
শেষ ধাপ: যাচাই, এবং তা করতে হবে সম্পদ ঢোকানোর আগেই
ব্যাকআপ যাচাইয়ের একমাত্র উপায় সত্যিকারভাবে একবার রিকভার করে দেখা, আর সেটি করতে হবে যখন ঝুঁকি সবচেয়ে কম:
১. ওয়ালেট সিড ফ্রেজ তৈরি করার পর, কোনো সম্পদ পাঠানোর আগে ওয়ালেটটি মুছে বা রিসেট করে নিজের হাতে লেখা কপি দিয়ে আবার রিকভার করুন। ২. রিকভারির পর দেখুন প্রথম রিসিভ অ্যাড্রেসটি মোছার আগের অ্যাড্রেসের সঙ্গে হুবহু মিলছে কি না — মিললে বোঝা যায় শব্দ, ক্রম, ডেরিভেশন পাথ ও passphrase সবই ঠিক আছে। ৩. নিশ্চিত হওয়ার পরেই সম্পদ পাঠান, প্রথমে অল্প পরিমাণ পাঠিয়ে পরীক্ষা করে তারপর বড় অংশ। ৪. এরপর বছরে একবার দেখে নিন: কাগজ স্যাঁতসেঁতে হয়ে লেখা মুছে যাচ্ছে কি না, ধাতব কপি জায়গামতো আছে কি না, লেখা তথ্যগুলো এখনো সঠিক কি না।
ওয়ালেটে সম্পদ থাকা অবস্থায় যাচাই করতে চাইলে একই ডিভাইসে মুছে নতুন করে শুরু করবেন না। সঠিক উপায় হলো আলাদা একটি পরিষ্কার ডিভাইস বা দ্বিতীয় হার্ডওয়্যার ওয়ালেটে "শুধু দেখার" রিকভারি করে অ্যাড্রেস মিলিয়ে নেওয়া, তারপর মূল ডিভাইস নিয়ে কাজ করা।
সেলফ-কাস্টডির বাকি দিকগুলো (ডিভাইসের নিরাপত্তা, 2FA, উইথড্রয়াল হোয়াইটলিস্ট) আলাদা বিষয়; এক্সচেঞ্জের দিকের সেটিংস নিয়ে বিস্তারিত আছে অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা সেটিংস ও অ্যাকাউন্ট হাতছাড়া হলে করণীয় লেখায়।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন: সিড ফ্রেজ, প্রাইভেট কি আর Keystore ফাইলের মধ্যে পার্থক্য কী? উত্তর: সিড ফ্রেজ হলো বীজের মানুষের পড়ার উপযোগী রূপ, যা থেকে পুরো ওয়ালেটের সব প্রাইভেট কি তৈরি হয়; প্রাইভেট কি সাধারণত একটি অ্যাড্রেসের জন্য; Keystore হলো পাসওয়ার্ড দিয়ে এনক্রিপ্ট করা প্রাইভেট কি ফাইল। ব্যাকআপে অগ্রাধিকার সিড ফ্রেজের, কারণ এর আওতা সবচেয়ে বড়।
প্রশ্ন: কাগজে লেখা সিড ফ্রেজ কয়েক বছরে ফিকে হয়ে যাবে না তো? উত্তর: সাধারণ কাগজে বলপয়েন্ট কলমে লেখা শুকনো ও আলোছায়া জায়গায় অনেক দিন টেকে, তবে আর্দ্রতা, রোদ বা থার্মাল পেপার সমস্যা তৈরি করে। এ কারণেই বছরে একবার দেখে নেওয়া এবং পরিমাণ বাড়লে ধাতব কপিতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সিড ফ্রেজ রাখা যাবে? উত্তর: পরামর্শ দেওয়া হয় না। বেশির ভাগ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ক্লাউডে সিঙ্ক করে, অর্থাৎ অফলাইন গোপন তথ্য অনলাইনে চলে যায়; আর মাস্টার পাসওয়ার্ড একবার ফাঁস হলে ওয়ালেট ও সব অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে ঝুঁকিতে পড়ে।
প্রশ্ন: ১২ আর ২৪ শব্দের নিরাপত্তায় কতটা পার্থক্য? উত্তর: ব্রুট-ফোর্সের হিসাবে দুটোই বাস্তব সাধ্যের অনেক বাইরে, পার্থক্য সেখানে নয়। বাস্তব পার্থক্য ভুল ধরার ক্ষমতায়: এই লেখার পরিমাপে একটি শব্দ ভুল হলে গৃহীত হওয়ার হার ১২ শব্দে ৬.৩৮%, ২৪ শব্দে ০.৪৫%।
প্রশ্ন: আমার লেখা শব্দগুলো আসলেই তালিকার শব্দ কি না, কীভাবে দেখব? উত্তর: BIP-39 ইংরেজি তালিকার প্রতিটি শব্দের প্রথম ৪ অক্ষর অনন্য, তাই অফলাইনে উন্মুক্ত শব্দতালিকা ফাইলের সঙ্গে এক এক করে মিলিয়ে নেওয়া যায়। পুরো সিড ফ্রেজ কোনো ওয়েব টুলে টাইপ করবেন না।
সূত্র ও যাচাইয়ের সময় (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
- BIP-39 স্পেসিফিকেশন:
github.com/bitcoin/bips/blob/master/bip-0039.mediawiki - BIP-39 ইংরেজি শব্দতালিকা:
github.com/bitcoin/bips/blob/master/bip-0039/english.txt(২০৪৮ লাইন) - Electrum অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন, Seed Version System:
electrum.readthedocs.io/en/latest/seedphrase.html - চেকসাম পাস করার হার: উপরের শব্দতালিকা ব্যবহার করে আমরা নিজেরাই BIP-39 চেকসাম প্রয়োগ করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০,০০০টি সিড ফ্রেজ তৈরি ও যাচাই করেছি; ফলাফল লেখার টেবিলে দেওয়া আছে
এই লেখা সাধারণ শিক্ষামূলক তথ্য, বিনিয়োগ বা আইনি পরামর্শ নয়। নিজে প্রাইভেট কি রাখার অর্থ সব দায়ও নিজের — কাজ করার আগে ওয়ালেটের অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন দেখে নিন।
